পেস্তা বাদাম খেলে কি হয়?
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ?? প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আশা করি আপনারা সকলে ভালো আছেন। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় হলো পেস্তা বাদামের পুষ্টিগুণ এবং উপকারিতা সম্পর্কে।
আপনি কি জানেন পেস্তা বাদাম খেলে কি হয়? বা এর উপকারিতা কি?
যদি না জেনে থাকেন! তাহলে চলুন আজকে জেনে আসি পেস্তাবাদামের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা সম্পর্কে!
প্রিয় পাঠকবৃন্দ!পুষ্টিগুণ এবং শারীরিক উপকারিতার দিক থেকে পেস্তা বাদামের কোনো বিকল্প হয় না বললেই চলে। পরিচিত বিভিন্ন ধরনের বাদামের মাঝে পেস্তা বাদাম অন্যতম। তবে পেস্তাবাদাম খেতে ভালবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। পেস্তা বাদামের রঙের জন্য, সুস্বাদু স্বাদের জন্য, মনোরম হাল্কা গন্ধ এবং ভালো সংরক্ষণ গুনের জন্য অন্যান্য বাদামের তুলনায় পেস্তা বাদাম অনেক দামী।
পেস্তাবাদাম আসলে একটি ফল, যার বীজগুলোকে খেয়ে থাকি আমরা। পেস্তা বাদাম খোলসের ভিতরে একটা লালচে পাতলা বাদামী রঙের আবরনে মোড়া থাকে, এই আবরনকে পেল্লিকেল বলা হয়। এই লালচে পাতলা বাদামী রঙের আবরনে মোড়া থাকে সবুজ বর্নের পেস্তা বাদাম।
পেস্তা বাদামে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম থাকার পাশাপাশি এতে রয়েছে মোনোয়ানস্যাচুরেটেড ও পলি আনস্যাচুরেটেড অয়েল, প্রোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, জিঙ্ক এবং ভিটামিন-ই।
এছাড়াও এই বাদামে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভোনয়েড, যা বিভিন্ন রকমের রোগ প্রতিরোধে খুবই কার্যকরী। এই খাবারটি আমাদের শরীরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে এত দ্রুত কাজ করা শুরু করে যে নিমিষেই আমাদের ক্লান্তি ভাব দূর হয়ে যায় এবং মন চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
পেস্তা বাদামে থেকে তৈরী তেল চর্ম রোগের ওষুধ হিসাবেও ব্যবহার করা হয়। এই বাদামে স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন, ফাইবার এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের একটি ভাল উৎস। পেস্তা বাদামে বেশ কয়েকটি প্রয়োজনীয় পুষ্টি রয়েছে যা, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ওজন হ্রাস করতে, হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং হজম স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সহায়তা করতে পারে।
এই পেস্তা বাদাম খাওয়ার ফলে আপনার শরীরের রক্তকে পরিশুদ্ধ করে তুলে। এমনকি বড় বড় রোগ মরণ ঘাতী ক্যান্সারের মতো মারাত্মক রোগ থেকেও রক্ষা করতে পারে । এই পেস্তা বাদাম নিয়মিত খেলে বিভিন্ন ধরনের রোগ থেকে নিরাময় লাভ করা যায়। তাহলে চলুন জেনে আসি পেস্তা বাদাম খাওয়ার বিভিন্ন উপকারিতা সমূহ।
১.ক্যান্সার থেকে রক্ষা করেঃ
মরণঘাতী যত গুলো মারাত্মক রোগ রয়েছে তার মধ্যে ক্যান্সার অন্যতম যা সহজেই নিরাময় করা যায় না। কেউ যদি নিয়মিত পেস্তা বাদাম খায়, তবে তার এই মরণব্যাধি মারাত্মক রোগ হওয়া থেকে বেঁচে থাকতে পারবে। এই পেস্তা বাদামে বিদ্যমান ভিটামিন বি ৬, যা রক্তের কোষের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে।
২.ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করেঃ
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশ কার্যকর পেস্তা বাদাম। অন্যান্য বাদামের তুলনায় কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকলেও পেস্তা বাদামের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স খুবই কম। অর্থাৎ, এই বাদাম খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ খুব বেশি বৃদ্ধি পায় না। উপরন্তু পেস্তায় উপস্থিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ক্যারোটিনয়েড ও ফেনল জাতীয় যৌগগুলি রক্তের শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সহায়তা করে।
৩.প্রোটিনের ভালো উৎসঃ
এক আউন্স বা ২৮ গ্রাম পেস্তায় থাকে মাত্র ১৫৯ ক্যালোরি। অন্যান্য বাদামের তুলনায় যা অনেকটাই কম। কিন্তু পেস্তার মোট ওজনের কুড়ি শতাংশ থাকে প্রোটিন। আমন্ড ছাড়া আর কোন বাদামে এত পরিমাণ প্রোটিন মেলে না। অতি প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডের অনুপাত অন্য যে কোন বাদামের তুলনায় বেশি থাকে পেস্তায়। এই অ্যামাইনো অ্যাসিডই প্রোটিনের গঠনগত একক।
৪.চুলের সমস্যা দূর করেঃ
চুলের সমস্যা নাই এমন মানুষ পাওয়া দূস্কর। পেস্তা বাদাম খেলে চুলের বিভিন্ন সমস্যা দূর হয়ে থাকে। পেস্তা বাদামে প্রচুর পরিমাণে ফ্যাটি এসিড থাকে, যা চুলের গোঁড়াকে শক্তিশালী ও ঘন করে তোলে। তবে এই বাদাম ব্যবহার করে যে হেয়ার মাস্ক তৈরি করা হয় তা আপনার চুলের ভেতর থেকে ময়শ্চারাইজ করে এবং চুলের পুষ্টি উপাদান বৃদ্ধি করে থাকে। এর পাশাপাশি আরো চুলের আগা ফাটা ও চুল পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে।
৫.হজমশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করেঃ
ফাইবার দীর্ঘ সময় খাদ্যনালীর মধ্যে অপাচ্য অবস্থায় থাকতে পারে এবং কিছু উপকারী ব্যাক্টেরিয়া এই ফাইবারের উপর কাজ করে। এর ফলে ফাইবার ভেঙে ক্ষুদ্র শৃঙ্খলযুক্ত ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি হয়। এর মধ্যে বিউটাইরেট জাতীয় ফ্যাটি অ্যাসিডে সবচেয়ে উপকারী। কাজেই ফাইবার হজমশক্তি ভাল রাখতে সহায়তা করে।
৬.রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করেঃ
কারও কারও মতে পেস্তাবাদাম রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এর ফলে দূরে থাকে হৃদ্রোগ। শুধু তা-ই নয়, এটি রক্তনালীর ভিতরের স্তর বা এন্ডোথেলিয়াম ভাল রাখতেও সাহায্য করে।
৭.হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করেঃ
পেস্তা বাদাম রক্তের হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। যাদের রক্তের হিমোগ্লোবিন কম তারা পেস্তা বাদাম খেতে পারেন । বাদামের মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি ৬ প্রোটিন উপাদান যা রক্তে অক্সিজেন বহন করে থাকে। আপনার রক্তের হিমোগ্লোবিন ও অক্সিজেন কমে গেলে প্রতিদিন নিয়মিত পেস্তা বাদাম খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিন ও অক্সিজেনের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।
৮.সুস্থ ত্বকের জন্য সহায়তা করে থাকেঃ
আপনি যদি সুস্থ, মসৃণ ও লাবন্যময় ত্বক পেতে চান? তাহলে আপনি নিয়মিত পেস্তা বাদাম খেতে পারেন। পেস্তা বাদামে ভিটামিন ই রয়েছে। আর ভিটামিন-ই স্বাস্থ্যকর চামড়ার জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি উপাদান। আবার পেস্তা বাদামের তেল আপনার ত্বককে সুন্দর ও ময়শ্চারাইজ করতে সাহায্য করবে এবং শুষ্ক ত্বক থেকে মুক্তি দিবে । এর পাশাপাশি এটি সূর্যের ক্ষতিকর uv রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করে থাকে এবং ত্বকের চামড়া কে সতেজ রাখে।
৯.স্নায়ুবিক সিস্টেম সচল রাখেঃ
পেস্তা বাদামে থাকা ভিটামিন বি ৬ আমাদের স্নায়বিক সিস্টেমের জন্য খুবই উপকারি । এই পেস্তায় থাকা ভিটামিন আমাদের নার্ভের তন্ত্রগুলির চারপাশে এক প্রকার মায়েলিন ঘনত্ব তৈরি করে যা নার্ভের তন্ত্রগুলির মাধ্যমে অন্য স্নায়ু থেকে বার্তা প্রেরণ করে থাকে। যাকে বলা হয় স্নায়ুবিক সিস্টেম। পেস্তা বাদাম খেলে ামাদের স্নায়ুবিক সিস্টেম সবসময় সচল থাকে।
১০.চোখের সমস্যা থেকে রক্ষা করেঃ
পেস্তা বাদাম আমাদের চোখের বিভিন্ন সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। এটা চোখের জন্য খুব উপকারি একটি খাবার। এটি চোখের বিভিন্ন রোগের সমস্যা থেকে চোখ কে রক্ষা করতে পারে। নিয়মিত পেস্তা বাদাম খেলে বৃদ্ধ বয়সে চোখের সাধারণ যেই সমস্যা দেখা দেয় এবং যার ফলে চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে যায় ওইসব সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে । এই পেস্তা বাদাম চোখের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি কারী কোষগুলো থেকে রক্ষা করে।
১১.রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ
আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে সহজেই বিভিন্ন রোগ বাসা বাধে। অল্পতেই অসুস্থ হয়ে যায়। তাই আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যত বেশি হবে তত ভাল হবে তখন আমরা সহজেই অনেক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবো। এই পেস্তা বাদামে থাকা ভিটামিন বি ৬, এটি রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।
১২.জ্বালাপোড়া থেকে রক্ষা করেঃ
পেস্তা বাদাম খেলে শরীরের যে কোন জ্বালাপোড়া প্রতিরোধ করতে সহায়তা করে। ভিটামিন ই, ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ৬ সমৃদ্ধ পেস্তা বাদাম শরীরের যে কোন সমস্যা সমাধানে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে।
১৩.ফাইবারের ঘাটতি দূর করেঃ
শরীরে ফাইবারের ঘাটতি হলে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত ফাইবার খেলে পরিপাকতন্ত্র ভালোভাবে কাজ করতে পারে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় ভুগতে হয় না। খাবারের ফাইবার দীর্ঘসময় পেট ভরা রেখে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস হচ্ছে পেস্তা বাদাম। যেহেতু ফাইবার পেটভরা অনুভূতি ও তৃপ্তি বৃদ্ধি করে, তাই সঠিক পরিমাণে পেস্তা বাদাম খেয়ে ওজন কমাতে পারেন, বলেন ডা. লারসন।
১৪.কম ক্যালরিঃ
পেস্তা বাদামে ক্যালরির পরিমাণ অন্য কিছু বাদামের চেয়ে কম। খোসাবিহীন এক আউন্স পেস্তা বাদামে মাত্র ১৫৯ ক্যালরি রয়েছে। অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন বৃদ্ধি, কার্ডিওভাসকুলার তথা হার্ট ও রক্তনালির রোগ, ডায়াবেটিস ও বিষণ্নতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই অতিরিক্ত ক্যালরি থেকে উদ্ভূত সমস্যায় ভুগতে না চাইলে স্ন্যাকস হিসেবে পেস্তা বাদাম খেতে পারেন।
১৫.অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টে প্রাচুর্যপূর্ণঃ
পেস্তা বাদামে অন্য বাদামের চেয়ে বেশি পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও প্রদাহরোধী উপাদান রয়েছে, বলেন ডা. আনজিলোন।
১৬.ভালো ঘুম হতে সাহায্য করেঃ
পেস্তা বাদামে মেলাটোনিন পাওয়া যায়। এ হরমোন ঘুম ও জাগরণ চক্র নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ডা. আনজিলোনের মতে, অন্য বাদামের চেয়ে পেস্তা বাদামেই সবচেয়ে বেশি মেলাটোনিন থাকে। তিনি বলেন, ‘একমুঠো পেস্তা বাদাম খাওয়ার অর্থ হচ্ছে মেলাটোনিন সাপ্লিমেন্টের একটি বড়ি সেবন করছেন।’ জেট ল্যাগ বা আকাশপথে ভ্রমণ জনিত ক্লান্তি অথবা সাধারণ ক্লান্তি দূর করতেও পেস্তা বাদাম মুখে পুরতে পারেন।
১৭.স্বাস্থ্যকর ফ্যাট রয়েছেঃ
নিয়মিত পেস্তা বাদাম খেলে দীর্ঘস্থায়ী উপকার পাবেন, কারণ এতে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনসাচুরেটেডের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে এসব ফ্যাট শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে পারে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। এসব ফ্যাট শারীরিক কোষের বিকাশ ও ব্যবস্থাপনায়ও অবদান রাখতে পারে। এছাড়া পেস্তা বাদামের পলিআনসাচুরেটেড ফ্যাটে এমন প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা মস্তিষ্কের সুস্থ কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত পেস্তা বাদাম খেলে মস্তিষ্কের বয়স জনিত জ্ঞানীয় ক্ষয় ধীর হবে, পরামর্শ দেন ডা. লারসন।
পেস্তা বাদামের পুষ্টিগুণঃ
পেস্তাবাদামে পুষ্টি গুনাগুন অনেক। পেস্তা বাদামে একধরনের লুটেন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান আছে। মানুষের অতিরিক্ত বয়স হলে তখন বিভিন্ন শারীরিক রোগ বা সমস্যা দেখা যায়। এরমধ্যে কিছু হলো, মাংসপেশির দুর্বলতা, চোখের ছানির সমস্যা, চামড়া কুঁচকে যাওয়া ইত্যাদি। এই পেস্তা বাদাম অতিরিক্ত বয়সের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
এই পেস্তাবাদাম আমাদের দাঁতের বিভিন্ন সমস্যা ও লিভারের সমস্যায় বেশ উপকারী। এই পেস্তা বাদাম শরীরের রক্ত পরিশুদ্ধর কাজও করে থাকে।
প্রতি ১০০ গ্রাম পেস্তাবাদামে পুষ্টি উপাদান হিসেবে রয়েছে-
শর্করা, ২৭.৫১ গ্রাম, চিনি ৭.৬৬ গ্রাম, ফাইবার ১০.৩ গ্রাম, স্নেহ পদার্থ ৪৫.৩৯ গ্রাম, প্রোটিন ২০.২৭ গ্রাম, লুটিন জিজানথেন ১২০৫ মাইক্রোগ্রাম, থায়ামিন বি১ ০.৮৭ মিঃগ্রাঃ, রিবোফ্লাভিন বি২ ০.১৬০ মিঃগ্রাঃ, ন্যায়েসেন বি৪ ১.৩০০ মিঃগ্রাঃ, ভিটামিন বি৬ ১.৭০০ মিঃগ্রাঃ, ফোলেট বি৯ ৫১ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ৫.৬ মিঃগ্রাঃ, ভিটামিন ই ২.৩০ মিঃগ্রাঃ। এছাড়াও আছে, ক্যালসিয়াম ১০৫ মিঃগ্রাঃ, লোহা ৩.৯২ মিঃগ্রাঃ, ম্যাগনেসিয়াম ১২১ মিঃগ্রাঃ, ফসফরাস ৪৯০ মিঃগ্রাঃ, পটাসিয়াম ১০২৫ মিঃগ্রাঃ, দস্তা ২.২০ মিঃগ্রাঃ।
তাহলে চলুন এবারে জেনে আসি পেস্তাবাদাম খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে।
পেস্তা বাদাম খাওয়ার নিয়মঃ
এই পেস্তা বাদাম যখন যেভাবে ইচ্ছা খেতে পারবেন। তবে এই পেস্তা বাদাম খাওয়ার কিছু নিয়ম আছে । এই নিয়মগুলো সঠিক ভাবে অনুসরণ করে আপনি যদি পেস্তা বাদাম খান তাহলে অবশ্যই আপনি এর ভাল ফলাফল বা এর উপকার পাবেন। তাই চলুন জেনে পেস্তা বাদাম খাওয়ার নিয়ম ।
পেস্তা বাদাম খাওয়ার সময় অবশ্যই উপরের খোসা ছড়িয়ে তারপর খাবেন। পেস্তা বাদাম কাঁচা খেলে এর উপকারিতা বেশি পাওয়া যায়। কেননা সিদ্ধ করে খেলে এর গুনাগুন কিছুটা নষ্ট হয়ে যায়। যদি কাঁচা বাদাম খেতে অসুবিধা হয় বা কেউ যদি কাঁচা খেতে না পারেন তাহলে পেস্তা বাদামের সাথে মধু দুধ ইত্যাদি জাতীয় কিছু মিশিয়ে নিতে পারেন এতে বাদামের পুষ্টি গুনাগুন যেমন ঠিক থাকবে তেমনি বাদাম খেতেও সুস্বাদু হবে।
পেস্তাবাদাম সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে খাওয়া যেতে পারে । রাতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন আবার ভিজানো ছাড়া খোসা ছড়িয়ে সকালে খালি পেটে পেস্তা বাদাম খাবেন। সকারে পেস্তা বাদাম খেলে দ্রুত শরীরে পুষ্টিগুণ ও হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।
পেস্তা বাদাম আপনি ভাজা, কাঁচা কিংবা সালাদ এর মিশিয়ে ও খেতে পারেন। এবং যে কোন সময় খেতে পারেন।
পেস্তা বাদাম কতটুকু খাবেন?
দৈনিক আপনি যতটুকু খেতে পারেন খাবেন তবে চেষ্টা করবেন যেন দৈনিক কমপক্ষে ছয় থেকে ষাট টি পেস্তাবাদাম খেতে পারেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে দৈনিক ৩০ টি খাওয়া উত্তম।
পেস্তা বাদামের উপকারিতা সম্পর্কে তো জানলেন। তাহলে এবার চলুন জেনে আসি পেস্তা বাদামের উপকারিতা সম্পর্কে!
পেস্তা বাদাম খাওয়ার অপকারিতাঃ
পেস্তা বাদামের অপকারিতা তেমন কিছু নাই তবে অতিরিক্ত পরিমাণে পেস্তা বাদাম খেলে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। যেমন, কাশি , হাঁচি, অ্যালার্জির সমস্যা , ফুসকুড়ি এবং মুখ ফোলা ফোলা ভাবের মতো লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে। আবার অতিরিক্ত পেস্তা বাদাম খাওয়ার ফলে ডায়রিয়া, পেট খারাপের সমস্যা ও দেখা দিতে পারে। নিয়ম অনুযায়ী সাভাবিক পরিমান খেলে কোন সমস্যা হয়না।
যাদের এলার্জির সমস্যা আছে, তাদের এই বাদাম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ পেস্তাবাদাম এলার্জির সমস্যা তৈরি করে।
পরিমাণের তুলনায় বেশি খেলে আপনার রক্তচাপ বাড়িয়ে দেবে। যারা কিডনী সমস্যায় ভূগছেন, তাঁরা পেস্তাবাদাম পরিহার করুন। অতিরিক্ত গ্রহণে আপনার কিডনীতে পাথর সৃষ্টি করতে পারে। মজা পেয়ে নিয়মের বাইরে খুব বেশি বেশি খেতে থাকলে আপনার ওজন বেড়ে যাবে নিশ্চিত।
প্রিয় পাঠকবৃন্দ! আমাদের এই পোস্টটি যদি আপনাদের ভালো লেগে থাকে তাহলে, আপনারা বেশি বেশি শেয়ার করবেন এবং অবশ্যই ফলোও বাটনটি ক্লিক করতে ভুলবেন না!



0 Comments